বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আন্তর্জাতিক ই-ওয়েস্ট দিবস ২০২৫ উপলক্ষে WEEE Society Bangladesh-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ইয়োগা ফাউন্ডেশন বসুন্ধরা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই উন্নয়নের আহ্বানে অংশগ্রহণ করেন। জানুন কীভাবে ই-বর্জ্যের লাগসই পুনর্ব্যবহার সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে উঠেছে ই-বর্জ্য বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এ সমস্যা মোকাবেলায় সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় আন্তর্জাতিক ই-ওয়েস্ট দিবস। এরই অংশ হিসেবে আজ শনিবার, ১১ই অক্টোবর ২০২৫ সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে WEEE Society Bangladesh।
সংগঠনের পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আকতার উল আলম, পরিষদের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচি পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন ইয়োগা ফাউন্ডেশন বসুন্ধরা, “আমরা সবাই রানার – বসুন্ধরা” গ্রুপের সদস্যবৃন্দ, পাশাপাশি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেন।
র্যালিটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জাপান স্ট্রিড ১০০ ফিট মোড় থেকে শুরু হয়ে জাপান স্ট্রিট হয়ে ওয়ালটন হেড অফিসের দিক ঘুরে পুনরায় ১০০ ফিট জাপান স্ট্রিটে এসে শেষ হয়। সকালবেলার নির্মল বাতাসে লিখিত স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা— “ই-বর্জ্য কমাই, পরিবেশ বাঁচাই, সুস্থ জীবন গড়ি।”
এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল —
“ই-বর্জ্যের লাগসই পুনর্ব্যবহার: ই-ওয়েস্ট কমাই, পরিবেশ বাঁচাই, সুস্থ জীবন গড়ি।”
র্যালির পরবর্তী পর্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান, মো. শাহাদাত হোসেনসহ আরও অনেকে। তাঁরা বলেন, ক্রমবর্ধমান ইলেকট্রনিক ব্যবহার আমাদের জীবনে যেমন সহজতা এনেছে, তেমনি এর বর্জ্য এখন এক বড় সংকটে রূপ নিচ্ছে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব হলো ব্যবহার শেষে ইলেকট্রনিক সামগ্রী যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিংয়ের আওতায় আনা।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ই-বর্জ্য এখনো অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক খাতে নিষ্পন্ন হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। WEEE Society Bangladesh-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সরকার, শিল্প খাত ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে একযোগে কাজ করে, তবে একটি টেকসই ও পরিচ্ছন্ন ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীকে WEEE Society Bangladesh-এর লোগো সংবলিত টি-শার্ট প্রদান করা হয়। এছাড়াও র্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল হালকা আপ্যায়নের আয়োজন।
সচেতনতার পথে ইয়োগা ফাউন্ডেশন বসুন্ধরা
র্যালিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে ইয়োগা ফাউন্ডেশন বসুন্ধরা। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. শোয়েব জামান আলোচনা ও মতামত পর্বটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন,
“ইয়োগা শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি মনন ও পরিবেশচেতনার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। আমরা বিশ্বাস করি, যে ব্যক্তি নিজের শরীর ও মনের প্রতি যত্নশীল, সে-ই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হয়। তাই ইয়োগা ফাউন্ডেশন বসুন্ধরা ভবিষ্যতেও সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, ই-বর্জ্যের লাগসই ব্যবস্থাপনা শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করবে না, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ার পথে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. আবুল বাশার বলেন,
“প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য আমাদের চারপাশে জমছে। এর বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বাতাসকে দূষিত করছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র— সবার সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। WEEE Society Bangladesh-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তিনি সকল নাগরিককে আহ্বান জানান, প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ স্তর থেকে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে।
পরিবেশের জন্য এক ছোট পদক্ষেপ, মানবতার জন্য এক বড় প্রতিশ্রুতি
এই কর্মসূচি শুধু একটি র্যালি নয়— এটি ছিল পরিবেশ সচেতনতার এক প্রাণবন্ত উৎসব। অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন, এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে চালু থাকলে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সার্বিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বসুন্ধরার রাস্তাজুড়ে যখন “ই-ওয়েস্ট কমাই, পরিবেশ বাঁচাই, সুস্থ জীবন গড়ি” লেখা স্লোগানটি প্রদর্শিত হচ্ছিল, তখন এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল—
মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক অচ্ছেদ্য, আর সুস্থ জীবন মানেই পরিবেশবান্ধব জীবন।
পরিশেষে, উপস্থিত সদস্যবৃন্দ ও অতিথিরা WEEE Society Bangladesh-এর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রতি বছর এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সারসংক্ষেপে:
এই র্যালি ও আলোচনা শুধু ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আহ্বান নয়; এটি ছিল সচেতন নাগরিক সমাজ গঠনের এক প্রতীকী উদ্যোগ, যেখানে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও মানবতার বার্তা এক সুতোয় বাঁধা পড়েছে।








