মহম্মদপুর (মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরার মহম্মদপুরে ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, জরিমানা, ভাংচুর বন্ধের প্রতিবাদে প্রধান সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, উপজেলা পরিষদ ঘেরাও, প্রধান উপদেষ্টা ও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইট ভাটা মালিক ও শ্রমিকবৃন্দ। মঙ্গলবার সকাল ১০ ঘটিকায় উক্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার সকল ইট ভাটা মালিক ও কয়েক হাজার শ্রমিক মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এসে জড়ো হতে থাকেন। সড়ক অবোরোধ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় ইট ভাটা মালিকরা জানান, ইট ভাটার সাথে সরাসরি ১০ হাজার শ্রমিক জড়িত। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ। যাদের পেট চলে ইট ভাটার পয়সা দিয়ে। যদি ইট ভাটা বন্ধ হয় তবে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। চুরি ছিনতাই বাড়বে, ভাটা মালিকরা বেশিরভাগ ব্যাংকের থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন, তারাও টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পথে বসে যাবেন।
শ্রমিকরা প্লা কার্ড নিয়ে মিছিল দিতে থাকেন “ভাত দে না হলে কাজ দে’ বাঁচার মত বাঁচতে দে” শ্লোগানে শ্লোগানে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। তারা জানায়, ভাটায় কাজ করে সংসার চালাই, মা বাবার চিকিৎসা করাই, ভাই বোনের লেখাপড়া খরচ চালাই। ভাটা বন্ধ করে দিলে আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে।
মাগুরা জেলা ইট ভাটা সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম সাবু হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন শ্রমিকের রক্তের উপর দিয়ে ভাটায় যেতে হবে। ইট ভাটায় মোবাইল কোর্ট, ভাংচুর, জরিমানা করতে হলে যারা বড় অংকের টাকা নিয়েছে সেসকল কর্মকর্তাকে আসতে বলবেন। তা না হলে ফ্যাসিবাদী সরকারকে যেভাবে উৎখাত করেছি আপনাদেরকেও সেভাবে প্রতিহত করা হবে। এসময় মহম্মদপুর উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি নুরোল মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক নাসির হোসেন সহ অনেকে বক্তব্য প্রদান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনুর আক্তারের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্বারকলিপিতে জিগজ্যাগ ইট ভাটাকে লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রদান। জিগ্জ্যাগ ইটভাটায় কোন প্রকার হয়রানি বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করা। ভাটা বন্ধ করতে হলে সরকারিভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান। মাটি কাটার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের প্রত্যানপত্র নেয়ার বিধান বাতিল। ইটভাটাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়া। ইটভাটা পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদী পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন সহ কয়েকটি দাবী স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।





