রূপালীদেশ ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সেবা কার্যক্রম আরও আধুনিক, দ্রুত এবং যুগোপযোগী করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সব ধরনের নোট ও নথি ৩ কার্যদিবসের (৭২ ঘণ্টা) মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নির্দেশনায় এ বিষয়ে মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দ্রুততর করবে।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক ভবন থেকে প্রাপ্ত সেবার বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ জানানোর সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপাচার্য কার্যালয়ের প্রবেশপথ এবং রেজিস্ট্রারের অফিসের সামনে দুটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ইমেইলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানো যাবে এবং খুব শিগগিরই অনলাইন গুগল ফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃতীয়ত, প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অটোমেটেড প্রবেশ পদ্ধতি চালুর কাজ চলছে। একই সঙ্গে সেবা গ্রহীতাদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেস্কে নোটিশ প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অফিস প্রধানদের নিজ নিজ দপ্তরের উপস্থিতি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থত, প্রথম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অন্যান্য ফি প্রদান প্রক্রিয়া অনলাইনে সহজ করা হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে অথবা বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হল অফিসে সহজেই ফি জমা দিতে পারছেন। ফলে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলেছে। এ ছাড়া ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে এবং তথ্যসেবা জোরদার করতে প্রশাসনিক ভবনের তথ্যকেন্দ্রে শিক্ষার্থী যুক্ত করা হয়েছে।
পঞ্চমত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইসিটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে এই প্রশিক্ষণের আওতায় প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নিচ্ছেন। সপ্তাহে দুই দিন করে মোট ৩৬ ঘণ্টার এই প্রশিক্ষণ পর্যায়ক্রমে সকলের জন্য চালু করা হবে।
ষষ্ঠত, মার্কশিট, সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে রূপান্তর করা হয়েছে। নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন, পেমেন্ট এবং ডকুমেন্ট ট্র্যাকিং সুবিধা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গৃহীত পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।





