বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে কনভার্ট হয়ে তৈরি হয় জাতীয় নাগরিক কমিটি, পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
জুলাই বিল্পবের পর মানুষের অনেক আশা এই দলকে ঘিরে। কিন্তু সে আশার প্রতিফলন কি আদৌও দেখতে পারবো আমরা? কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তারা এখন নানান চাকরিতে সুপারিশ করছেন।
একদিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তারা ব্যক্তি বিশেষ এর জন্য সুপারিশ করছেন অন্যদিকে বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে তাদের তালিকা ভুক্ত শিল্পীদের কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তারা কখনো শেখ মুজিবের কোনো প্রোগ্রামে পারফর্ম করেছেন কিনা। করে থাকলেই তারা ব্ল্যাক লিস্টেট। এখন আশা যাক এই প্রশ্নে, বাংলাদেশ এ ঠিক কত জন মানুষ এই ১৬ বছরে শেখ মুজিবের একটা পোগ্রামেও ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় অংশগ্রহণ করেন নি? ঠিক কতজন গলা উচিয়ে বলতে পারবে? সার্জিস আলমকেও তাহলে ছাত্রলীগ করার জন্য ব্ল্যাকলিস্টেট করা হোক।
হাসনাত আব্দুল্লাহ দেখেছি ঢালাও ভাবে মুজিব এর জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছেন। সেক্ষেত্রে তিনিও একই তালিকায় পড়েন বলে মনে করি। স্কুলে মুজিব এর উপর রচনা লিখে প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অর্জন করে ছিলাম। এখন যতই জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকি না কেন আমাকেও রাষ্ট্র থেকে, কর্মস্থান থেকে বহিষ্কার করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অনুষ্ঠান গুলোতে অংশগ্রহণ করার জন্য শিল্পীদের শিল্পকলার লিস্টেট হওয়ার পরেও, তাদের মেধা থাকার পরেও এক প্রকার অবাঞ্চিত করা হয়েছে। ঠিক কী কারনে সংস্কৃতি ও শিল্পকে দলীয়করণ করা হয়েছে তা আমার এখনো বোধগম্য নয়। একজন শিল্পীর কাজ শিল্প চর্চা করা এবং সে চর্চার মাধ্যমেই তার জীবিকা নির্বাহ করা
বিএনপি সরকারে বসলে তাদের সরকারি পোগ্রামে তারা পারফর্ম করবে পরবর্তীতে এনসিপি বা অন্য দল বসলে তাদের প্রোগ্রাম করবে। কিন্তু এইভাবে বৈষম্য, কোটা দূর করার নামে জাতির সাথে প্রহসনের কোনো অর্থই নেই। দেশের সাংবাদিক, শিল্পী, সৃজনশীল ব্যক্তিদের জোরপূর্বক দলীয়করণের মোটা দাগে ফেলে পরবর্তীতে নতুনদের নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করে আসলে দেশের উন্নতি কতটা সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছি।
ভিন্নমত ভিন্ন দলের হলেই কেউ পাকিস্তান চলে যেতে বলে, কেউ বলে ভারত যা।।।
আসলে আমার এই দেশটা কার বাপের?
জানার খুব ইচ্ছে রইলো।। কেউ জানলে জানিয়ে যাবেন।
তবে এই ক্ষেত্রে একমত যদি কেউ আওয়ামী আমলে মেধা না থাকা সত্ত্বেও শুধু মাত্র দলীয় ক্ষমতার জোরে কোনো ফায়দা হাসিল করে কিংবা চাকরিতে নিযুক্ত হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এর ভিন্ন কর্মকান্ডই দেখতে পাচ্ছি। এখন আসুন যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক কমিটি সুপারিশ করেছেন তার পরিচয় জানা যাক। হাসানুর রহমান হাসান হচ্ছেন সাঁতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরের উপর হামলা মামলার ১ নং সাক্ষী ইয়ারাব হোসেনের শ্যালক। ইয়ারাব হোসেনসহ বাকিদের সাক্ষীতে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন ও অন্য ৪৪ জনে ৭ বছর করে কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এই ইয়ারাব কট্টর আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তার হাত ধরেই হাসানুর রহমানের সাংবাদিকতায় প্রবেশ।
দেদারসে আওয়ামী পন্থী রাজনীতি করে তিনি দাবি করেন তার বিরুদ্ধে সে সময় ৩২ টি মিথ্যা মামলা হয়েছে। ভাবনার বিষয় হচ্ছে এ কথার সত্যতা কী? যদি মামলা হয়েও থাকে খতিয়ে দেখা উচিত সে মামলাগুলো কী সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষের কিনা যা আওয়ামী লীগের নিরাপত্তা চাদরের প্রভাবে ঢাকা পরে গেছে, লংঘিত হয়েছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার। কেননা তার যোগসাজশে বিনা বাধায় চলেছে চাঁদাবাজি। এ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন ও রয়েছে। দলীয় মদত ছাড়া এরকম অন্যায় করে ও তার ভাষ্যমতে একাধিক মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে তদন্ত, বিচার ছাড়া ঘুরে বেড়ানোর ভিন্ন প্রক্রিয়া আছে বলে জানা নেই।
আজ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণ এর যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কথা তখনই দেখা যাচ্ছে নিরাপদ শিল্পীদের, সাংবাদিকদের উপর জুলুম আর আবার সেই একই কুখ্যাত মুখদের সর্বক্ষেত্রে দৌরাত্ম। জাতীয় নাগরিক পার্টি/কমিটি কোনো চাকরিতে সুপারিশ করার অধিকার রাখেন কী করে বা কী পন্থায় আমার জানা নেই। তবে এইটুকু জেনে গেলাম যারা দেশের প্রত্যেক সেক্টর থেকে ফ্যাসিস্টের দালাল উচ্ছেদ করার কথা বলে তাদের নিজেদের মধ্যে প্রত্যেক কোণায় কোণায় এক একটি হাসিনার বাস।
নতুবা হাসানুর রহমান হাসানের মত লোককে বিটিভির সাঁতক্ষীরার প্রতিনিধি করতে কিংস পার্টিখ্যাত, বৈষম্যবিহীন দল সুপারিশ করত না বলে বিশ্বাস করি।
লেখকঃ উমরা সিদ্দিকা প্রভা





