রূপালীদেশ ডেস্ক:
সংবাদ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকাস্থ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক মি. ফ্রাঁসোয়া চামব্রোর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয়পক্ষ শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ফরাসি ভাষা শিক্ষার পরিধি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও উভয়পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা মনে করেন, বহুভাষিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে।
এ সময় ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে, প্রখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক ও দার্শনিক আঁদ্রে মালরোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী নভেম্বরে একটি যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হন। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে আঁদ্রে মালরোর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শুধু তাই নয়, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তার এই অবদান বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আজও স্মরণ করিয়ে দেয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই বৈশ্বিক মানের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে অগ্রসর হতে চায়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে।
অন্যদিকে, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক মি. ফ্রাঁসোয়া চামব্রো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করা সম্ভব।
সাক্ষাৎ শেষে উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে আরও যৌথ কর্মসূচি গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।





