সাকিল হোসাইন,নাটোর প্রতিনিধি :নাটোর নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ভুঁইয়াকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। রাজশাহী থেকে নাটোরে ধরে এনে মামুনকে মারপিট করা হয়। এতে মামুনের মুখমন্ডল গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।আব্দুল্লাহ আল মামুন জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ভুঁইয়ার ছোট ভাই ও লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল বাতেন ভুঁইয়ার ছেলে। শনিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৮টায় সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেবার পথে আহত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবার তিনি ব্যবসার কাজে রাজশাহী যান। তাঁর রাজশাহী যাবার খবর পেয়ে নাটোরের বিএনপি কর্মী সজীব, শাহীন, রব মিয়াসহ বেশ কয়েকজন দুইটি মাইক্রোবাসে তাকে জোরপূর্বক নাটোর সদরের আমিরগঞ্জ বাজারে আনে। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রথমে মারধর ও পরে কুপিয়ে জখম করে। আহত মামুন বলেন, বিএনপি কর্মীরা আমাকে বাঁচাতে কাউকে এগিয়ে আসতে দেয়নি। সকালে চাঁদা না পাওয়ায় আমার এক চাচাতো ভাইকেও মারধর করে তারা।
এ ঘটনায় বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করেও অভিযুক্ত কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফোন দিলে কেউ ফোন রিসিভ করেনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ বলেন, `বিএনপির কোন কর্মী এ ঘটনায় জড়িত নয়। মামুনের পরিবার আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘসময় ওই এলাকায় মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে ও নির্যাতন করেছে বলে সেখানকার মানুষ তাদের উপর ক্ষুব্ধ।’
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুব্রত কুমার বলেন, রাতে মামুন নামের রোগীকে ইমারজেন্সিতে আনা হয়। হেড ইনজুরিসহ পায়ের দুই জায়গায় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করি। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর মধ্যেই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল নিয়ে গেলে তাকে রাজশাহীতে রেফার্ড করে। এরপর তার স্বজনরা তাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়।





