আরিফুল ইসলাম আরিফ নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী ১৮বছর ২মাস পর আগামী শনিবার (১৭মে) নিজ জেলা নীলফামারীতে আসছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাতো ভাই।
এদিন (১৭মে) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে গণসংবর্ধনার।
গণসংবর্ধনা সফল করতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শহর জুড়ে প্রচারণার পাশাপাশি তাকে স্বাগত জানিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা টানিয়েছেন ব্যানার ফেস্টুন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শহরে হচ্ছে শুভেচ্ছা মিছিল।
জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, শাহরিন ইসলাম তুহিন শনিবার (১৭মে) ঢাকা থেকে বিমান যোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন সকাল ১১ঘটিকায়। এদিন দুপুর ১২ ঘটিকায় নীলফামারীতে যোগ দেবেন গণসংবর্ধনায়।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেফাউল জাহাঙ্গীর আলম শেপু জানান, প্রিয় নেতা তুহিন ভাই নিজ জেলা নীলফামারীতে আসছেন দীর্ঘ ১৮বছর পর। তাকে বরণ করে নিতে আমরা প্রস্তুত।
বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন ছাড়াও গুণিজন, সুধীসমাজ এবং আপামর জনতার উদ্যোগে তাকে দেয়া হবে সংবর্ধনা।
বলেন, তুহিন ভাই আমাদের হৃদয়ের স্পন্ধন। তাকে ঘিরে নীলফামারী আজ উজ্জীবিত।
দলীয় সূত্র জানায়, নীলফামারীর আগে সৈয়দপুরে একটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। এদিন বিকেলেও ডোমার হাইস্কুল মাঠে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হবে তাকে।
এছাড়া রবিবার ও সোমবার ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
ডিমলা ও জলঢাকায় গণসংবর্ধণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়, গণসংযোগ, চক্ষুশিবির এবং আয়েশা ইসলাম হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হাফেজদের মাথায় পাগড়ি পড়ানো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন শাহরিন ইসলাম।
ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রব্বানী প্রধান বলেন, তুহিন ভাইকে ঘিরে মানুষ উচ্ছ্বসিত। তাকে শুধু বরণ করে নিতেই না, তাকে দেখতে এমনকি তার কথা শোনার জন্য মানুষ অধীর অপেক্ষা করছেন।
বলেন, নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) উপজেলায় যে উন্নয়ন করে গেছেন তার কারণে তিনি আজ মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছেন।
ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রইছুল আলম চৌধুরী বলেন, সাবেক সাংসদ তুহিন আগের চেয়ে আরো বেশি জনপ্রিয় এই এলাকার মানুষের কাছে।
আওয়ামী লীগের অন্যায় অত্যাচার আর উন্নয়নের নামে লুটপাটের রাজনীতি তাকে (তুহিনকে) আপন করে নিয়েছে।
তার বিরুদ্ধে যে দুটি মিথ্যে মামলা দেয়া হয়েছে সেটি দুটি ছিলো মূলত হয়রানি করার জন্য। এসব মামলার কোন ভিত্তি নেই।
দলীয় সূত্র জানায়, দুটি ভিত্তিহীন মিথ্যে মামলায় ২১বছর সাজা হয়েছিলো শাহরিন ইসলাম তুহিনের। গত ২২ এপ্রিল আমেরিকা থেকে ঢাকার নিজ বাসায় ফিরেন তিনি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ২৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তার মুক্তির দাবিতে নিজ জেলা নীলফামারী ছাড়াও রংপুর ও ঢাকায় শুরু হয় আন্দোলন কর্মসূচি। এক পর্যায়ে ৮মে আদালত হতে জামিন পান শাহরিন ইসলাম তুহিন।
নীলফামারী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আল মাসুদ চৌধুরী জানান, দুদক যে দুটি মামলা করেছিলো। তা ছিলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। মামলার জন্য যা যা ডকুমেন্টস ও তথ্য উপাত্ত দরকার সে সবের কিছুই ছিলো না।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫আগষ্টের পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও তার দোসররা এখনও বিভিন্ন স্থানে বসে রয়েছে। আদালতেও দোসররা বসে রয়েছে। যার কারণে তুহিন ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও তাকে জামিন দেয়া হয়নি। কিন্তু আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে পেরেছি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম বলেন, দীর্ঘ ১৮বছর পর তুহিন ভাই তার নিজ জেলা নীলফামারীতে আসছেন। তিনি নির্যাতিত একজন নেতা। তার প্রতি অন্যায় আচরণ করেছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। বিএনপিকে শেষ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা আজ নিজেই শেষ হয়ে গেছেন। দেশ থেকে পালাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, কারামুক্তি এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে তাকে গণসংবর্ধনা দিতে প্রস্তুত হয়ে রয়েছে এই এলাকার মানুষ।
শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পর তিনি রাত্রী যাপন করবেন নিজগ্রাম গোমনাতি ইউনিয়নের বাড়িতে।
জহুরুল আলম বলেন, তুহিন ভাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় এজন্য মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা, তোরণ স্থাপনে নিষেধ করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আলমগীর সরকার বলেন, ঐতিহাসিক ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিলো তাকে কিন্তু জনগণ তাকে আবার বীরে বেশে দেশে ফিরে এনেছে। আর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, এই এলাকার উন্নয়নের কাণ্ডারি তুহিন ভাইকে পেয়ে আমরা গর্বিত। কারণ তার উপর নির্ভর করছে আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।
তার ফেরাতে নতুন ভাবে চাঙ্গা হবে রাজনৈতিক অঙ্গন তথা বিএনপির রাজনীতি। আমরা বিএনপি তথা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রত্যেকটি নেতা কর্মী তাকে বরণ করে নিতে অপেক্ষা করছি।





