ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান ব্লকে অনুষ্ঠিত হলো হাইব্রিড বোরো ধানের ক্রপ ক্যাফেটেরিয়া মূল্যায়ন ইভেন্ট। গতকাল বুধবার কৃষকদের জমিতে বাস্তবভিত্তিক এই মূল্যায়ন অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীজ কোম্পানির প্রতিনিধি, মিলার, ডিলার, কৃষক ও কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে কৃষি সম্প্রসারণ, গবেষণা ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন জাতের পারফরম্যান্স সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মূল মূল্যায়ন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. মোছাঃ নাছরিন আক্তার বানু। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন আইআরআরআই বাংলাদেশ-এর চিফ অব পার্টি ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুরের হাইব্রিড রাইস বিভাগের প্রধান ও সিএসও ড. মোঃ জামিল হাসান, বিনা (বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট), ময়মনসিংহের গবেষণা সমন্বয়কারী ড. শামসুন নাহার বেগম।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI)-এর বীজ ব্যবস্থা ও পণ্য ব্যবস্থাপনা প্রধান বিশেষজ্ঞ ড. সাইদুল ইসলাম, সহকারী বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুর রহিমসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
ক্রপ ক্যাফেটেরিয়ার বৈচিত্র্য
আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই)-এর অর্থায়নে আয়োজিত এই ক্রপ ক্যাফেটেরিয়ায় মোট ১৪টি হাইব্রিড জাত স্থান পায়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত দুটি জাত ছাড়াও অংশ নেয় এসিআই সীড লিমিটেড, ব্র্যাক সীড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ, ইস্পাহানী সীড, লালতীর সীড লিমিটেড, মেটাল এগ্রো লিমিটেড এবং সুপ্রীম সীড কোম্পানির দুটি করে জাত। কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের সরাসরি মতামত ও ফিল্ড পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে এই জাতগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়।
উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য
এই ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের সরাসরি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের পারফরম্যান্স পর্যালোচনার সুযোগ করে দেওয়া এবং গবেষণা ও বাণিজ্যিক সেক্টরের মধ্যে সমন্বয় সাধন। অংশগ্রহণকারীরা উচ্চ ফলনশীলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, চালের গুণগত মান, খরচ ও লাভের অনুপাতসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে স্কোর প্রদান করেন। এসব তথ্য ভবিষ্যতে জাত নির্বাচন ও কৃষি নীতিমালায় সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময়
আলোচনা পর্বে কৃষক-কৃষাণীরা সরাসরি তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ কেউ কিছু জাতের দ্রুত বাড়ন্ত গুণের কথা বলেন, আবার কেউ চালের মান নিয়ে প্রশংসা করেন। কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এসব মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের জাত উন্নয়নে দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
এ ধরনের ক্রপ ক্যাফেটেরিয়া ইভেন্ট মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ হিসেবে কৃষকদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।





