রূপালীদেশ ডেস্ক:
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এছাড়া নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৪ জন সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ৪ জন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ৩ জন প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ৩ জন প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদকে ভূষিত হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, কোস্ট গার্ডকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন সংযোজন করা হয়েছে এবং নতুন জাহাজ যুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে জনবল ১০ হাজারে উন্নীত করা, মেরিটাইম হেলিকপ্টার সংযোজন এবং উচ্চগতির বুলেটপ্রুফ বোট অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, যা উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আইনি ভিত্তি প্রণয়ন করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহিনীটির যাত্রা শুরু হয় এবং ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এটি কার্যক্রম শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।





