সেবামুখী প্রশাসন গড়তে উদ্যোগী ছিলেন কিশোরগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা

Date:

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে মাত্র ৫ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই জেলাজুড়ে সেবার আলো ছড়িয়ে গেছেন তিনি। জেলা প্রশাসনকে সেবামুখী করতে তার উদ্যোগ ও কার্যক্রম ছিলো চোখে পড়ার মতো। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার দরজা ছিলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। ফলে সাধারণ মানুষ যেকোনো সমস্যা, অভাব-অভিযোগ নিয়ে তার কাছে যেতে পেরেছেন। জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মব্যবস্তার মাঝেও তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সমস্যা ও অভাব-অভিযোগের সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সেবাপ্রার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে জনবান্ধব প্রশাসনের বার্তা দিয়ে রবিবার (২০ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের কর্মস্থলে শেষ কর্মদিবস কাটিয়েছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করাকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার কর্মকালের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন জেলাবাসী। তাঁর দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কিশোরগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
কিশোরগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি করা ছিলো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিদায়ী জেলা প্রশাসক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠ প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সফল সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি একটি মডেল নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন।
নির্বাচনী সফলতার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের প্রাণ হিসেবে পরিচিত হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ছিলো অনন্য। বিশেষ করে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে তিনি আধুনিক রেস্ট হাউজ নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়া হাওরের অবকাঠামো ও বোরো ফসল রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে তাঁর তৎপরতা জেলাজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার বৃহত্তম জামাতের জন্য বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে তিনি নানামুখী প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যের প্রতীক পাগলা মসজিদের আন্তর্জাতিকমানের কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজে গতি আনতেও তিনি উদ্যোগী ছিলেন। মসজিদের বিপুল পরিমাণ দানকৃত অর্থের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং তা জনহিতকর কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তিনি প্রশংসনীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
একজন জনবান্ধব ও উন্নয়নকামী জেলা প্রশাসক হিসেবে কিশোরগঞ্জের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিশেষ করে হাওরের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর অবদান দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং জাতীয় গুরুত্বের একটি নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করে তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে জেলাবাসীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় নিচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_img

Popular

More like this
Related

আধুনিকতা, আভিজাত্য ও নিরাপদ আবাসনের প্রতিশ্রুতিতে মাহিম বিল্ডার্সের নতুন যাত্রা

ঢাকা ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শোয়েব জামান, বিশেষ সংবাদদাতা: রাজধানীর বসুন্ধরা...

আবাসিক গ্যাসের সিস্টেম লসের আড়ালে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হরিলুট

মোঃ আক্তারুজ্জামান মল্লিক: আনুমানিক ২০১০–২০১২ সাল থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,...

রাজধানীতে আ ফ ম আবদুল আজিজ ও ফেরদৌসী মজুমদারের বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত

আ ফ ম আবদুল আজিজের ‘দৈনন্দিন ন্যূনতম ইবাদত’ ও...

নুরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ জাতীয়তাবাদী যুবদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক

রূপালীদেশ ডেস্ক: জাতীয়তাবাদী যুবদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নুরে আলম...