পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী হোসাইন মোহাম্মদ আসিকের মৃত্যু ঘিরে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তার সহপাঠীরা। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় আসিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ করে দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে এসে বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিকেল ৫টায় শিক্ষার্থীরা লেবুখালী ইউনিভার্সিটি স্কয়ার সংলগ্ন পায়রা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অবস্থান নেন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের অবহেলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী খোকন লিখিত বক্তব্যে গতকাল ঐ সময়ে কর্মরত সকল চিকিৎসক ও নার্সদের চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া সহ ৫দফা দাবী উত্থাপন করেন।
বিকেল সাড়ে ৫টায় মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত হন পবিপ্রবির মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের এই ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে আমি শতভাগ একমত। একজন শিক্ষার্থীর জীবন আমরা এভাবে হারাতে পারি না। আমি নিজে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন শুধু এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদ নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের জবাবদিহিতা এবং মানোন্নয়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং যেন আর কোনো আসিক অকালে না হারায়—সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
উল্লেখ গত ১৪ই এপ্রিল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারী জনতা কলেজ মাঠে ফুটবল খেলা শেষে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হুসাইন মুহাম্মদ আশিক নামের এক শিক্ষার্থী। বন্ধুরা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কোন চিকিৎসককে পাওয়া যায় নি। জরুরী বিভাগ থেকে আইসিইও তে পাঠালে সেখানেও কোন চিকিৎসক ছিলো না, ৪০ মিনিট পর চিকিৎসা শুরু হলেও ততক্ষণে আশিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে।সহপাঠীদের অভিযোগ সময় মতো চিকিৎসা শুরু করলে হয়তো আশিক এর বেঁচে থাকা সম্ভব হতো।





