রূপালীদেশ ডেস্ক:
“বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক এক দিনব্যাপী কর্মশালা আজ ২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের শহিদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং সেন্টার ফর ইন্টাররিলিজিয়াস অ্যান্ড ইন্টারকালচারাল ডায়ালগ (সিআইআইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। হিট (HEAT) প্রজেক্টের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিআইআইডি’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অনারারি অধ্যাপক ড. কাজী নূরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সিআইআইডি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের এসপিএম ড. মো. দিদারুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে, যা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। তবে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য এই সম্প্রীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালনের মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত করতে গবেষণা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দিনব্যাপী কর্মশালাটি তিনটি পৃথক সেশনে বিভক্ত ছিল, যেখানে বিভিন্ন দেশের ও বিভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির বিশেষজ্ঞরা আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহনশীলতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
এই কর্মশালা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
