রূপালীদেশ ডেস্ক:
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও সামরিক ও অসামরিক পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক ও অসামরিক সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৪ জনকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগে। পরবর্তীতে ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এ বাহিনী কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবপাচার প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বর্তমানে কোস্ট গার্ড ৪টি জোনের আওতায় ৬৩টি স্টেশন ও আউটপোস্ট, ২৮টি জাহাজ এবং ১৩৮টি দ্রুতগামী বোটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত বছরে তারা ৫৫ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে এবং অসংখ্য অপরাধীকে আইনের আওতায় এনেছে।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাছ রক্ষা পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাহিনীটি দ্বিতীয়বারের মতো ‘মৎস্য পদক (রৌপ্য)’ অর্জন করেছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কোস্ট গার্ডের সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) থেকে ‘Letter of Commendation’ অর্জন এবং প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘অগ্রযাত্রা’র ISO সনদ লাভ এ বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রমাণ বহন করে। একইসাথে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কও সুদৃঢ় হয়েছে।
দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের অবদান অনস্বীকার্য। ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
