রূপালীদেশ ডেস্ক:
সংবাদ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের বিবিএ ৩২তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম (শহীদুল জাহীদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের আর্থিক খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে ইন্স্যুরেন্স ডেভলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মান্নানসহ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স খাত বর্তমান অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী, দায়িত্বশীল ও নৈতিক হতে হবে। তারা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের পরিচালক এবং আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নবীনদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই বিভাগ শুধুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও কাজ করে। বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনা শেখও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ক্যারিয়ার গঠনে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান। বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী বিভিন্ন ব্যাচের মোট ১৫ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং তাদের এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা সিনিয়রদের কাছ থেকে বিভাগীয় কার্যক্রম, শিক্ষা পদ্ধতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এতে করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা আরও সহজ ও আনন্দময় হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পুরো আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ, প্রেরণা ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে দেশের আর্থিক খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করে আসছে। এ ধরনের আয়োজন নতুন শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি এবং একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
