মোঃ মিনহাজুর রহমান মাহিম, ইবি প্রতিনিধি: ‘জুলাই বিপ্লবে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি। অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম নারী দিবসে আমরা এক বেদনাদায়ক সময় পার করছি। সম্প্রতি মাগুরায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে— যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি করছি।’— শনিবার (৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সমন্বয়ক এস এম সুইট।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলছে। সাইবার বুলিংসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে— যা বন্ধ করতে হবে। সাম্প্রতিক ঠাকুরগাঁও ধর্ষণের ঘটনাটিও দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এসময় তিনি মাগুরার ঘটনায় ভুক্তভোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে তাকে দেশের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। গত ১৫ বছরে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা আরও বেগবান হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু বিচার ব্যবস্থায় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মা-বোনরা আন্দোলনে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন। আজ যারা ধর্ষণের বিচারে বিলম্ব করছেন, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধীদের রক্ষা করছেন। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল— ‘ধর্ষক সমাজের ঘুণপোকা’, ‘ধর্ষণ হলো ব্যাধি’, ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘মাগুরার হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নরপশুর বিচার চাই’ এবং ‘আশ্বাস নয়, আইনের বাস্তবায়ন চাই’।
মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
