Home জাতীয় মা দিবসে ছেলের ভালোবাসায় রোকসানার মুখে ফিরে এলো সেই পুরনো হাসি

মা দিবসে ছেলের ভালোবাসায় রোকসানার মুখে ফিরে এলো সেই পুরনো হাসি

0

বিল্লাল বিন কাশেম
অনলাইন ডেস্ক :

মা দিবসের গল্প, মা দিবস ২০২৫, মায়ের ভালোবাসা, সন্তানের শ্রদ্ধা, সংগ্রামী মা, মা-ছেলের সম্পর্ক, বাস্তব গল্প, বাংলার মা, আরমান রোকসানা কাহিনী, মা দিবসের উপহার

ছোট্ট একটি পাড়া— নাম বাবুপাড়া। শহরের কোল ঘেঁষে এই এলাকায় রঙ নেই, আলোর ঝলক নেই, আছে বাস্তবতার কাঁচা রঙ। এখানেই থাকে রোকসানা বেগম, স্বামী হারানো এক সংগ্রামী মা, আর তার একমাত্র সন্তান আরমান।

একটি টিনশেড ঘরে শুরু হয় তাদের নতুন জীবন। রোকসানার জীবন যেন এক ক্যানভাস— যেখানে প্রতিটি আঁচড় কষ্টের হলেও, রঙ ছিল ভালোবাসার। বাজারে সবজি বিক্রি, বাসায় কাজ, সন্ধ্যায় সেলাই— নিজের কষ্ট ঢেকে রেখে প্রতিদিন চেষ্টা করেছেন ছেলের মুখে হাসি ফোটাতে।

আরমান ধীরে ধীরে বড় হয়, মায়ের কষ্ট দেখে দেখে বড় হয়। একদিন স্কুল থেকে ফিরেই মাকে বলে—
“মা, তুমি আর কষ্ট করো না। আমি তোমার জন্য বড় বাড়ি বানাব।”
রোকসানা শুধু বলেন—
“মানুষ হ, তাতেই আমার সব পাওনা।”

রোকসানার হাসির পেছনে ছিল অনাহার, ঋণ, ওষুধ ছাড়াই বেঁচে থাকা। কিন্তু সেই হাসি কখনো মুছে যায়নি।

ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, পরে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যায়। মা তখনও সেই পুরনো ঘরে, পুরনো উঠোনে। প্রতিদিন ভাতের ভাগ রেখে দেন, যদি হঠাৎ ছেলে আসে।

একবার রোকসানা অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে আরমান সব ছেড়ে মা’র পাশে ছুটে আসে। রাতে কান্না জড়ানো গলায় বলে—
“মা, তোমার জন্য আমি কিছুই করতে পারিনি।”
রোকসানা চোখ তুলে বলেন—
“তুই তো আমার মুখে হাসি ফিরিয়েছিস, এর চেয়ে বড় কী আর কিছু হয়?”

মা সুস্থ হন, ছেলে বিদেশে মাস্টার্স করে চাকরি পায়। পরে মাকে একটি ফ্ল্যাট উপহার দেয়। পরিচারিকা, নিরাপত্তা, সব কিছু থাকলেও মা পুরনো বাড়ি ছাড়েন না। বলেন—
“এই বাড়িতে তোর ছেলেবেলার গন্ধ, আমার জীবনের গল্প— আমি এগুলো ফেলে যাব কেমন করে?”

আরমান প্রতিবছর ঠিক মা দিবসে ফিরে আসে। শাড়ি, ফুল, উপহার নিয়ে নয়— মায়ের মুখে একটুখানি হাসির আশায়।

মা দিবস ২০২৫।
ভোরে উঠেই রোকসানা বেগম দেখেন উঠোনে লাল গোলাপ, পাশে একটি চিরকুটে লেখা—
“মা, তুমিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।”
আরমান হাতে একজোড়া সোনার দুল নিয়ে দাঁড়িয়ে।

মা চোখ মুছতে মুছতে বলেন,
“এইসব তো আমার জন্য না রে!”
আরমান জড়িয়ে ধরে বলে,
“তোমার মুখের হাসি আমি টাকায় কিনে দিতে পারবো না, মা। আমি শুধু চাই— তুমি হাসো।”

সেদিন বিকেলে পুরো পাড়ায় দাওয়াত— পোলাও, মাংস, পায়েস। রোকসানা নিজে রান্না করেন। সবাই বলছে—
“আজ রোকসানা আপার মুখে যে হাসি দেখছি, অনেক দিন পর!”

আরমান একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন, মন ভরে দেখে। কারণ সে জানে—
এই হাসির জন্যই তো ছিল তার জীবনের সমস্ত লড়াই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version