Home জাতীয় সোশ্যাল মিডিয়া কি সমান্তরাল সরকারে রূপ নিচ্ছে?

সোশ্যাল মিডিয়া কি সমান্তরাল সরকারে রূপ নিচ্ছে?

গুজব, ব্ল্যাকমেল ও অপতথ্যের দাপটে আতঙ্কিত সমাজ—নাগরিক সুরক্ষায় আইনি কাঠামোর জরুরি প্রয়োজন

0

 অদিতি করিম:

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এখন নতুন এক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে—এটি কি ধীরে ধীরে একটি ‘সমান্তরাল সরকারে’ পরিণত হচ্ছে? এমন প্রশ্নই তুলেছেন বিশ্লেষক অদিতি করিম, যেখানে তিনি তুলে ধরেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার, গুজব, চরিত্রহনন এবং ব্ল্যাকমেলের ভয়াবহ চিত্র।

তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে একটি উদ্বেগজনক চিত্র—যেখানে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত কনটেন্টের কারণে একজন যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তার পদোন্নতি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি বিচার ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল চাপের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপতথ্য ছড়ানো এখন শুধু মত প্রকাশের বিষয় নয়; এটি অনেক ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেলিং ও চাঁদাবাজির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কিছু অসাধু গোষ্ঠী ব্যক্তিকে টার্গেট করে ডিপফেক ছবি বা মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। অনেকেই সামাজিক সম্মান রক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে এসবের সঙ্গে আপস করছেন।

এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টের ভিত্তিতেই অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত ছাড়াই মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এতে নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে আইন, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের পরও নাগরিকদের সাইবার সুরক্ষায় কার্যকর নতুন আইন প্রণয়ন না হওয়ায় এই শূন্যতা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাইবার অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে তিনি দেখিয়েছেন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে। ভুয়া তথ্য, হয়রানি ও সহিংস কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। এমনকি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় আইনের আওতায় এনে অফিস স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছে।

বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল হলেও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কোনো কার্যকর উপস্থিতি নেই। অথচ দেশ থেকে বিপুল অর্থ আয় করলেও তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো শক্ত কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার রাষ্ট্রীয় কাঠামোকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সুসংহত আইন, কার্যকর নীতিমালা এবং নাগরিকদের সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত না করলে এটি সমাজে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version