জিয়া উদ্দিন জিয়া, কিশোরগঞ্জ:
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, হাসিনা পতনের ২৪ ঘন্টা আগে আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহ শেখ হাসিনার পতন না দেখিয়ে আমারে কবরে নিইও না। তিনি বলেন ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা উড়ে গেলেন দিল্লি। মনে করতাছেন দিল্লী থেকে ট্যাংক নিয়ে আবারো দেশে আসবেন। না, তা হবে না। ১০ বছরে আওয়ামী লীগের আ লেখা যাবে না বাংলাদেশে।
আজ বুধবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ২০১৪ সনে মানুষকে ভোট দিতে দেয় নাই। ১৫৩টি আসনে বিনা ভোটে নির্বাচিত করেছেন। ২০১৮ সালে আমাদেরকে বøাভ দিয়ে ইলেকশানে নিছিলেন। ইলেকশানে নিয়ে দিনের ভোট রাতে করেছেন। নিশি রাতের এমপি বানিয়েছেন। ২০১৮ সালে মানুষকে ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারিতে আমি আর ডামির ভোট করেছেন। নৌকা আর ট্রাক কোনো মার্কা না সব মার্কাই হাসিনা মার্কা। সেই তিনটি ভোটে আজকে যে যুবকের বয়স ৩৬। একটি ভোটও দিতে পারে না বাংলাদেশে। সেই ভোটটা দিতে চাই। আমরা আগস্টের ৩ তারিখে এক দফা এক দাবি হাসিনা তুই কবে যাবি শ্লোগান দিয়েছি। ইউনুস সাহেব আপনি আমাদের মাথার মণি। আপনি ফ্রান্সে থেকে সে শ্লোগান শুনেছেন। হাসিনা কী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিল, সেতো কেন্ত্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিল। কেন্ত্রীয় সরকারের পতন চেয়েছিলাম বলেইতো এখন কেন্দ্রীয় সরকারের ইলেকশান হবে। হাসিনা গেছে, প্রধানমন্ত্রীও নাই সরকারও নাই। কাজেই আমরা হাসিনাকে তাড়াইছি। প্রধানমন্ত্রী হবে সরকার হবে, পার্লামেন্ট হবে। তার পরেই স্থানীয় ইলেকশান হবে। তিনি বেশী বাড়াবাড়ি না করতে একটি দলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ১৮ বছর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া শাড়ির আঁচল দিয়ে সন্তানের মতো লুকিয়ে রেখেছিল। এখন একটু সুযোগ পাইছেন, শ্লোগান দিচ্ছেন নৌকা আর ধানের শীষ দুই সাপের এক বিষ। আপনারা তো মুনাফেক। আপনাদেরকে যে আশ্রয় দিয়ে পাললো। সামান্য একটু সুযোগ পাইছেন, সব দখল করে ফেলেছেন। এখন বলতেছেন সব ক্ষমতা আমরা নিব। বিএনপির আর আসতে পারবে না। এই চক্রান্ত মনে নেয়া হবে না। দেশে ইলেকশান হবে। আর সেটি হচ্ছে পার্লামেন্ট ইলেকশান। ১৮ কোটি মানুষের মানুষের দেশ। তারাই হলো দেশেই মালিক। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে , তার বাড়ির পাহাড়াদার কে হবে। চক্রান্ত করবেন না। চক্রান্ত করা ভালো না।
তিনি আরো বলেন, হাসিনার সময় ছিল গভীর অন্ধকার কিন্তু টর্চলাইট মারলে দেখা যেতো। এখন হইলো গভীর কুয়াশা, দুইটা লাইট মারলেও গাড়ী চলেনা রাতে বেলায়। ইউনুস সাহেব দেশটা কুয়াশা হয়ে গেছে, আপনার কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ এটা আশা করেনা। আপনি বাংলার সুসন্তান। ১০টা প্রধানমন্ত্রীকে যোগ করলে আপনী তার চেয়ে লম্বা। আপনি শুধু প্রধানমন্ত্রী থাকার জন্য দেশটার সর্বনাশ কইরেন না। এই ছেলে পেলের কথায়, এখনো চুল দাড়ি উঠছে না। এই ছেলেদেরকে আমি কিছুই বলতে চাই না। যে ছেলেরা মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বললে বেয়াদবের মতো উত্তর দেয়। তাদেরকে বলি, এক সময় আমি হাসিনাকে বলছিলাম সাধু সাবধান। যারা এইসব করতাছেন, তাদেরকে বলছি সাধু সাবধান। এইদিন কিন্তু থাকবে না। দিন কিন্তু আইসা পড়ছে। এই মুর্হতে ইলেকশান হলে আল্লার রহমতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশ নায়েক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই তৃতীয়াংশ মেজোরিটি পাবে ইনশাআল্লাহ। কেউ ছাড়াতে পারবে না। সেই দলটাকে চক্রান্ত করে বঞ্চিত করতে চান। এই চক্রান্ত হতে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। মেজর জিয়া সে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেদিন আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম দেশে গণতন্ত্র আসবে। দেশের গরীব কৃষক শ্রমিকের সন্তানরা লেখা পড়া শিখবে। দেশে স্কুল থাকবে, মাদ্রাসা থাকবে। দেশের শিল্প সংস্কৃতি থাকবে। সকল ধর্মের মানুষ তাদের স্বাধীন মতো ধর্মকর্ম পালন করবে। দেশে শীতকালে ওয়াজ মাহফিল হবে। দেশে নাটক, যাত্রা গান হবে। আমরা কেউ কাউকে বাধা দিব না। যেমন শত ফুল না ফুটলে বাগান হয় না, তেমনি শত ধর্ম না থাকলে দেশ হয় না। আমি ধর্মের বিরুদ্ধে না। এই দেশটা আমাদের সবার। সবাই বসে যার যার কথা বলবো যার যার আদর্শ বলবো, কার আদর্শ পাস করবে, বা কে লিড করবে, তা ঠিক করবে এ দেশের জনগন। আমরা কেউ কাউকে হিংসা করবো না। এটা হচ্ছে আমাদের কালচার। সে কালচার আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে হবে। দেশকে যারা পাকিস্থান বানাতে চান তাদের চেষ্টা সফল হবে না।
তিনি আরো বলেন, দেশের দায়িত্ব নেয়ার জন্য আমাদের নেতা তারেক রহমান রয়েছেন। সেই নেতাকে আটকানোর জন্য দেশে বিদেশে চক্রান্ত হচ্ছে। আপনারা সেই চক্রান্ত মানবেন না। আমরা আন্দোলন করে কোনো চেয়ারম্যানকে ক্ষমতাচ্যুত করিনি। আমরা দেশের সরকারের নির্বাহীকে হটিয়েছে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো স্থানীয় নির্বাচন দেশবাসী মেনে নিবে না। তিনি অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সম্মান রেখে বলেন, দেশের মানুষ জাতীয় নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নিবে না।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা উন্নতি, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার ও দ্রæত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত এ বিশাল সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ শহর বিএনপির যুগ্মআহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লায়লা বেগম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আশফাক, জেলা বিএনপির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম সোহেল প্রমুখ।
