Home সারাদেশ শেরপুরে সিঁধ কেটে গরু চুরি, আন্তঃজেলা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

শেরপুরে সিঁধ কেটে গরু চুরি, আন্তঃজেলা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

পিকআপসহ সরঞ্জাম জব্দ, উদ্ধার দুই গরু; পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত

0

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

সংবাদ:
বগুড়ার শেরপুরে সিঁধ কেটে গরু চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ এবং লুট হওয়া পাঁচটি গরুর মধ্যে দুইটি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোরে মির্জাপুর ফ্লাইওভার এলাকা ও সারিয়াকান্দির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম (৩৪), মো. সবুজ (২৮), আব্দুল আলিম (৩৮), আব্দুর রহমান ওরফে রানা (৩৫) এবং আকাশ (২৪)। তারা বগুড়া ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চক্রের সদস্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের কহিতকুল গ্রামের এক কৃষকের গোয়াল ঘরের ইটের দেওয়াল ভেঙে পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চক্রটি। চুরি হওয়া গরুর মধ্যে ছিল তিনটি দুধাল গাভী ও দুটি বাছুর। এছাড়া একটি বকনা বাছুর নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। বুধবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে মির্জাপুর ফ্লাইওভারের নিচে অভিযান চালিয়ে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকালে তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৭৩০৯) তল্লাশি করে ড্রাইভারের সিটের পেছন থেকে তালা কাটার হাইড্রোলিক কাটার এবং দড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা গোয়াল ঘরের তালা ভেঙে গরু চুরি করত বলে পুলিশ জানায়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সারিয়াকান্দি উপজেলার বুরইল মধ্যপাড়া গ্রামে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে আকাশ নামের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে চুরি হওয়া একটি কালো রঙের গাভী এবং একটি লাল রঙের ষাঁড় বাছুর উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী কৃষক উদ্ধারকৃত গরুগুলো নিজের বলে শনাক্ত করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে। চক্রের একটি দল রাতে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে গরু চুরি করে এবং অন্য একটি দল দ্রুত সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করে। এতে করে কৃষকরা তাদের জীবিকার প্রধান সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আসামি মহাতাব, আলতাব ও মঞ্জুসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেল হাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। পুলিশের এ অভিযানে চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া বাকি গরুগুলো উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পুলিশের এই সফল অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের কার্যক্রম অনেকটাই ভেঙে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে গ্রামাঞ্চলে চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version