Home জাতীয় শেরপুরে ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি: দিশেহারা কৃষক, বাড়ছে অর্থনৈতিক শঙ্কা

শেরপুরে ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি: দিশেহারা কৃষক, বাড়ছে অর্থনৈতিক শঙ্কা

ধান, ভুট্টা ও সবজি খেত লণ্ডভণ্ড; অকাল বৃষ্টি ও কম দামে চাপে কৃষি অর্থনীতি

0

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় হঠাৎ বয়ে যাওয়া দমকা ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একদিকে বাজারে ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের সোনালি স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৩ বিঘা ধান, ৭৫ বিঘা ভুট্টা এবং ৮ বিঘা সবজি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক জায়গায় ফসল হেলে পড়লেও পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর বিনিয়োগ এখন বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম। মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, ১৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। ঝড়ে অন্তত ১ বিঘা জমির ধান পুরোপুরি হেলে পড়েছে, ফলে ফলন নিয়ে তিনি হতাশ।

আরেক কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, জমে থাকা পানির কারণে তিনি বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কাটছেন। তার ভাষায়, “পানিতে থাকলে ধান ও খড় দুটোই পচে যাবে। অন্তত খড় বাঁচানোর জন্য আধাপাকা ধান কেটে ফেলছি।”

ভুট্টা চাষি আবু হানিফ জানান, তার ৩ বিঘা জমির ভুট্টা গাছ ঝড়ে হেলে পড়ায় ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সবজি চাষি আমজাদ হোসেনের লালশাকের খেত প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খাতুন বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছেন। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং হেলে পড়া ফসলের পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, অকাল বৃষ্টি এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারে কম দামের কারণে কৃষি খাত বড় ধরনের চাপে রয়েছে। এতে শেরপুরের কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি, নইলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version