রূপালীদেশ ডেস্ক রিপোর্ট:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান টিপুর মুক্তির দাবিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক নেতারা দাবি করেছেন, টিপুকে শাস্তি দেওয়া তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলকে অপসারণ করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আজ (বৃহস্পতিবার) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সাংবাদিকরা।
তথ্য কমিশনে স্মারকলিপি, দেশব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে তথ্য কমিশনে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন তথ্য কমিশনের পরিচালক এ কে এম আজিজুল, যিনি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মফস্বল সম্পাদক রিদওয়ান আক্রাম এবং সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক টিপুকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরপুরী, সহসভাপতি আব্দুল হাকিম রানা, সহসম্পাদক নুরুল হুদা বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, আনিসুর রহমান লিমন, মারিয়া আক্তার ও সুমন খান।
তালায় মানববন্ধন: অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাংবাদিক সমাজ
টিপুর মুক্তির দাবিতে তালা উপজেলা মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে গতকাল দুপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি এম এ ফয়সাল এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “উপজেলায় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকেন ইউএনও। কিছুদিন আগে তাঁর অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই এই মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক টিপুকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”
তারা ইউএনও শেখ রাসেলের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, তিনি একজন আওয়ামী পরিবার থেকে এসেছেন এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও অনিয়ম ও প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও অবস্থান ধর্মঘটের ঘোষণা
একই দাবিতে গতকাল সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি। বক্তারা দাবি করেন, “ইউএনও ঘটনাস্থলে না থাকলেও আইন লঙ্ঘন করে সাংবাদিক টিপুকে সাজা দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও সংবিধানবিরোধী।”
বক্তব্য দেন চ্যানেল আইয়ের আবুল কালাম আজাদ, সময় টিভির মমতাজ আহমেদ বাপি, আরটিভির রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, ইনডিপেনডেন্ট টিভির আবুল কাশেম, দীপ্ত টিভির রঘুনাথ খাঁ, মানবজমিনের এস এম বিপ্লব হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা টিপুর নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং ইউএনও ও উপসহকারী প্রকৌশলী এম এম মামুন আলমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
গাজীপুরে চার প্রেস ক্লাবের যৌথ বিবৃতি ও ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
রোকনুজ্জামান টিপুর মুক্তির দাবিতে গাজীপুর জেলার চারটি প্রেস ক্লাব—জেলা প্রেস ক্লাব, সদর প্রেস ক্লাব, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও শ্রীপুর প্রেস ক্লাব—একযোগে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কারাদণ্ড দেওয়া সংবিধান, মুক্ত গণমাধ্যম এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী। যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক টিপুকে মুক্তি না দেওয়া হয়, তবে গাজীপুর থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গাজীপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিপন আনসারী, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, গাজীপুর সদর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোখলেসুর রহমান ও শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এম ফারুক।
সাংবাদিক টিপুর মুক্তি ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
তারা একবাক্যে বলেন, তথ্য অধিকার আইনকে পদদলিত করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
প্রয়োজনে এই প্রতিবেদনটিকে নিউজপেপার লেআউট বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরম্যাটেও সাজিয়ে দিতে পারি। চাইলে জানাবেন।