রূপালীদেশ ডেস্ক রিপোর্ট:
“সকল সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য,” — এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বলেন, “সম্প্রীতির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই আমরা।”
আজ শুক্রবার রাঙ্গামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বৌদ্ধ সংস্কৃতি বিকাশে করণীয়” শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারটি আয়োজন করে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এবং ব্যবস্থাপনায় ছিল মোনঘর।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, “বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সব দরজা খুলে রেখেছে। কৃষিক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা পাহাড়িদের এগিয়ে আনতে সমতল অঞ্চল থেকে দক্ষ জনবল এনে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।”
তিনি বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের কফি ও কাজুবাদামের সম্ভাবনা বিশাল। এসব ফসল আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
জাতীয় মূলধারার সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আর পিছিয়ে থাকতে চাই না। সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্রের প্রতি সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধান দেশকে সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর স্লোগান ‘আসুন দেশ বদলাই, পৃথিবীকে বদলাই’— আমরা সকলে মিলে বাস্তবায়ন করবো।”
কাপ্তাই লেকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণে পার্বত্যবাসীদের যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটি ভুলে গিয়ে আমাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। কাপ্তাই লেক আমাদের সম্পদ, এটি ডেভেলপ করলে দেশের অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।”
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব কান্তি বড়ুয়া।
প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৌদ্ধ তত্ত্ব বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, মং সার্কেলের রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী, আয়োজক কমিটির পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্যামল মিত্র চাকমা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজুয়ান খান (০১৮২৫৮৯৭৮১৮)।
