Home সারাদেশ মাগুরায় আঙ্গুর চাষে সাফল্য পেলেন কৃষক জামাল মণ্ডল

মাগুরায় আঙ্গুর চাষে সাফল্য পেলেন কৃষক জামাল মণ্ডল

0
মাগুরায় আঙ্গুর চাষে সাফল্য পেলেন কৃষক জামাল মণ্ডল

মাগুরার কৃষক জামাল মণ্ডল সফলভাবে আঙ্গুর চাষ করে বদলে ফেলেছেন ভাগ্য। জেনে নিন কিভাবে দেশি মাটিতে বিদেশি ফল চাষে পেলেন সাফল্য।

মাগুরায় দেশি মাটিতে বিদেশি ফল: আঙ্গুর চাষে সাফল্য এনে দিল কৃষক জামালকে

স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা:
মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় বিদেশি ফল আঙ্গুর চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক প্রান্তিক কৃষক। বাড়ির আঙিনায় লতানো গাছে থোকা থোকা রসালো আঙ্গুর—চোখ জুড়ানো সেই দৃশ্য এখন শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের এক অনন্য উদাহরণ। ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের পিপরুল গ্রামের কৃষক জামাল মণ্ডল প্রমাণ করে দিয়েছেন, পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে বাংলাদেশেও বিদেশি ফল চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব।

ছোট পরিসর থেকে বড় স্বপ্নের যাত্রা

মাত্র ২০ শতক জমিতে জামাল মণ্ডল গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের আঙ্গুর বাগান। পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন ৬০টি চারা দিয়ে। ভারত এবং যশোরের খাজুরা লেবুতলা থেকে সংগ্রহ করা চারটি জাত—লাল চয়ন, বাইক্লো, জিএস থ্রি ও জাম্বুরা—নিয়ে শুরু হয় এই চাষাবাদ।
প্রথম মৌসুমেই আশানুরূপ ফলন দেখে তিনি এবার বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন।

আয়ের সুযোগ ও কৃষির সম্ভাবনা

জামাল মণ্ডলের কথায়,

“গত বছর কিছু গাছে ভালো ফল পেয়েছিলাম। এরপর সাহস করে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করি। এখন প্রতিটি গাছে গড়ে ৩০ কেজি পর্যন্ত আঙ্গুর ধরেছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু গত মৌসুমেই প্রায় এক লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রি করেছি, এবার আরও বেশি বিক্রির আশা করছি।”

অন্য কৃষকদের সহায়তায়ও এগিয়ে জামাল

নিজের সাফল্য অন্যদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করছেন জামাল। ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার চারা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করেছেন। পরামর্শ, পরিচর্যা ও অন্যান্য সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে আশেপাশের কৃষকদের মধ্যেও আঙ্গুর চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা

শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন,

“জামাল মণ্ডলের বাগানটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমাদের কৃষি কর্মকর্তা তাকে সব ধরনের সহায়তা করছেন। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় পঞ্চাশ মণ আঙ্গুর উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা।”

বছরে দুইবার ফলন

এই আঙ্গুর বাগানে বছরে দুইবার ফল সংগ্রহ করা যায়, যা বাংলাদেশের জলবায়ুতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। কৃষকের ভাষায়,

“একদিকে পরিবারের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে আয়। আঙ্গুর চাষে এখন অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন আমার অভিজ্ঞতা দেখে।”

নতুন দিগন্ত

জামাল মণ্ডলের এই উদ্যোগ শুধু একটি কৃষকের গল্প নয়—এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। মাটি ও মানুষের মেলবন্ধনে কৃষি যে হতে পারে উন্নয়নের হাতিয়ার, তার জীবন্ত প্রমাণ তিনি। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এরকম উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাষিদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version